২ মে, ২০১৩

রানা প্লাজা ধ্বস এবং সাভারের ইউএনও


সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কবির হোসেন সরদারকে ওএসডি করা হয়েছে।

এই ভদ্রলোক সাভারে ভবন ধ্বসে পড়ার আগের দিন রানা প্লাজা ফাটল পরিদর্শন করে এসে ভবনটি প্রশাসনিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কোন ব্যবস্থা নেননি, বরং ভবন মালিকের সমর্থনে বলেছেন, "ভবনটি ভেঙে পড়ার কোন কারণ নেই"।. এমনকি ভবন ভেঙ্গে পড়ার পর তিনি নিজ হাতে রানার মুখ কাপড়ে ঢেকে দিয়ে তাকে মুরাদ জংয়ের গাড়িতে করে পালাতে সাহায্য করেন। পরবর্তীতে মিডিয়ার অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউএনও কবির হোসেন সরকার রানার জমির ব্যবসার পার্টনার এবং রানার সহায়তায় কবির সাহেব সাভারের শিল্প প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করেন। এতো কিছুর পরও কবির সাহেবকে ভবন ধ্বসের ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির সদস্য বানানো হয়। পরে জনমতের চাপে সরকার তাকে তদন্ত কমিটি থেকে বাদ দেয়। এরপর আজ তাকে ওএসডি করা হল। 

ওএসডি হিসাবে কবির সাহেব এখন বিনা কাজে বেতন পাবেন। তিনি এখন অফিসে গিয়ে গল্প উপন্যাস পড়ে দিন কাটাবেন। ওরে কে আছিস, তোরা হুমায়ূন আজাদের সব কিছু ভেঙ্গে পড়ে উপন্যাসটি কবির সাহেবের অফিসে পোঁছে দিয়ে আয়!

ওএসডি করা কোন শাস্তি নয়। সরকারের মতের সাথে ভিন্নমত হলে, বিদেশ বা প্রেষণ থেকে ফিরে এসে কোথাও পোস্টিং হওয়ার আগে, ঊর্ধ্বতন অধস্তনের দ্বন্দ্বে কখনো কারো প্রেস্টিজ বাঁচাতে, অথবা কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রাক্কালে এইরূপ ওএসডি করা হয়ে থাকে। তবে তার কি শাস্তি হয় তা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি। আমরা চাই, শত শত মানুষের প্রাণহানি ও হাজারো শ্রমিকের হতাহতের ঘটনার দায়ে কবির হোসেন সরদারকে গ্রেফতার করা হোক।

১৬ এপ্রি, ২০১৩

মুতু মুহম্মদ


আমাদের বাসায় দুধ দিত যে মানুষটি তার নাম মুতু মুহম্মদ। কারো নাম যে এরকম হতে পারে নিজে না দেখলে আমি বিশ্বাস করতাম না।

হুমায়ুন আহমেদের জননী আয়েশা ফয়েজ স্বাধীনতার বেশ আগে পচাগড়ে থাকাকালীন তার বাসার দুধ ওয়ালার উদ্ভট নামের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবেই। সেই দুধ ওয়ালার আসল নাম ছিল মুতু। আগেও কিছু নেই, পিছেও কিছু নাই, শুধু মুতু। ছোট বেলায় প্রতি রাতে বিছানা ভিজিয়ে ফেলার কারণেই নাকি তার এই নামের উৎপত্তি। এর মাঝে এলাকার এক মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে দেখা গেল মুতু নাম দিয়ে সে হিন্দু না মুসলিম সেটা বোঝার উপায় নেই। ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে মাননীয় ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব এই ধর্মনিরপেক্ষ মুতু নামের বদলে একটি ধর্ম-পরিচায়ক নাম উদ্ভাবন করে দিলেন। সেই থেকে মুতু হয়ে গেল মুতু মুহম্মদ। (সূত্র: আয়েশা ফয়েজের জীবন যে রকম আত্মজীবনী অবলম্বনে)।


সারমর্ম: ক্ষেত্র বিচার না করে অন্ধবিশ্বাসে যত্রতত্র ধর্ম ফলাতে গেলে ফলাফল হয়ে যেতে পারে মুতু মুহম্মদ নামের মতো উদ্ভট।

৫ এপ্রি, ২০১৩

ব্লগের ট্রাফিক ও শাহবাগ


সচলায়তনআমার-ব্লগ ও সামহোয়্যার...তিনটি অন্যতম বাংলা কমিউনিটি ব্লগের গত তিন মাসের ওয়েব ট্রাফিকের গ্রাফ। শাহবাগ আন্দোলনের জোয়ার-ভাটার চিত্রও হয়তো তুলে ধরে এটি। সব কয়টি ব্লগেই গতানুগতিক জানুয়ারি পেরিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকে উর্ধ্বমূখী যাত্রা শুরুমধ্য ফেব্রুয়ারিতে তুঙ্গে এবং এরপরই ধীরে ধীরে ভাটার টান। ঠিক যেমনটি হয়েছে শাহবাগে। তবে সব ব্লগেই মার্চের শেষ প্রান্তে বা এপ্রিলের শুরু থেকে আবারো জেগে উঠার ইঙ্গিত দেখা যায়। হয়তো শাহবাগও আবার জাগছে!


সব ব্লগের ট্রাফিক গ্রাফ পাশাপাশিঃ

সচলায়তন ট্রাফিক গ্রাফঃ

আমার-ব্লগ ট্রাফিক গ্রাফঃ

সামহোয়্যার ট্রাফিক গ্রাফঃ


ফেসবুক ও বদনবই



ফেসবুক শব্দের কোন বাংলা অনুবাদের প্রয়োজন আছে কিনা সে ব্যাপারে আমি সন্দিহান। তবে ফেসবুক শব্দের বাংলা হিসেবে বদনবই শব্দটির ব্যবহার দেখছি ইদানীং। এটি অতি দুর্বল আক্ষরিক অনুবাদ। বদনবই শব্দটি যিনি প্রচলন করেছেন তিনি এই মাধ্যমটির প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরতে পারেননি।


ফেসবুকের ফেস শব্দটি ঠিক বদন বা চেহারা তুলে ধরার বিষয় নয়। ফেসবুক আমার হয়ে কথা বলে। অনেকটা আমার মুখপাত্রের মতো। সেই হিসেবে ফেস শব্দের বাংলা হিসেবে মুখ শব্দটি ভালো মানাতে পারে। ফেসবুকের বুক শব্দটি ঠিক পাঠের বইয়ের ইমেজ তুলে ধরে না। ইংরেজিতে বুক শব্দে যেমন পড়ার বই বোঝায়, ঠিক তেমনি এই একই শব্দ লেখার খাতাও বোঝায়। ফেসবুক যত না পড়ার বিষয়, তার চেয়ে বেশী এটি আমার লিখার ক্ষেত্র। অনেকটা আমার লিখালিখির খাতার মতো। খাতা শব্দটি যখন নানা বিষয়ের সম্ভার হয়ে উঠে, সেটি তখন হয়ে যায় খাতাপত্র। আবার এই পত্র শব্দের অর্থ সংসদ বাংলা অভিধানে বলা আছে চিঠি কিংবা বইয়ের পাতা। সব মিলেয়ে ফেসবুকের বুক শব্দটি পত্র হিসেবেই ভালো অনুবাদ হয়।

এই দুই অংশ যোগ দিয়ে ফেসবুকের বাংলা মুখপত্র অনেক মানানসই হয়। ফেসবুক আমার কথা তুলে ধরে। মুখপাত্রের সাথে বেশ মিলে রেখে মুখপত্র চলতে পারে। আমার সামান্য মতামত এটি।


২ এপ্রি, ২০১৩

প্রতিবাদ...আমার ব্লগ স্টাইল



তিনজন ব্লগারকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আমার-ব্লগ কর্তৃপক্ষ তাদের ব্লগ সাইট বন্ধ ঘোষনা করে লিখেছেন: "ব্লগারদের নিঃশর্ত মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত আমার ব্লগ বন্ধ থাকবে। দরকার নাই ব্লগিং এর আর, দরকার নাই আমার ব্লগের...বিদায়"


নিজের কন্ঠ স্তব্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদের এই আইডিয়া বড়ই অদ্ভুত!




১ এপ্রি, ২০১৩

আমাদের সময় কম


"দৈনিক "আমাদের সময়" পত্রিকার অনলাইন ভার্সনের লোগো......পত্রিকার নামের সাথে ডটকম এমন ভাবে লেখা হঠাৎ করে দেখলে মনে হয় উনারা খুব সময় স্বল্পতায় ভুগছেন...... "আমাদের সময় কম"।

রাজশাহীতে পুলিশের উপর হামলা


জাতীয় কোন বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত একজন মানুষ কোন একক ব্যক্তি নন। ইউনিফর্ম পরে দায়িত্বপালন কালে তার প্রতিটি অ্যাকশনের জন্য জবাবদিহি করবে রাষ্ট্র। ঠিক তেমনি ইউনিফর্মড অবস্থায় দায়িত্বপালনরত কোন বাহিনী সদস্যের উপর হামলাও কোন একক ব্যক্তির উপর হামলা নয়। এটি সরাসরি আমাদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেআমাদের পতাকার বিরুদ্ধে হামলার সামিল।



ভিডিওঃ রাজশাহীতে পুলিশের উপর হামলা